কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ এ ০৯:৫৪ AM
কন্টেন্ট: পাতা
আজকের পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তনশীল, তীব্র এর ছুটে চলার গতি, প্রবল প্রতিযোগিতা পূর্ণ এর যাবতীয় অর্থনৈতিক বিধি ব্যবস্থা ও কার্মকান্ড। অগ্রসরমান প্রক্রিয়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির, বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তির বৈপ্লবিক বিকাশ বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য আরো কঠিন চ্যালেঞ্জের ব্যাপার করে তুলছে। এহেন পৃথিবীতে "যোগ্যতমের টিকে থাকা" কথাটি বিজ্ঞানীর কল্পনা নয়, অতি নির্মম। কঠিন ও বাস্তবে সত্য বটে। আর এ পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা বা কোন মতে আত্মরক্ষায় নয় বরং দৃঢ় পদক্ষেপ উন্নত শিরে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষা ও দক্ষতায় বলীয়ান, শক্ত মেরুদন্ডের অধিকারী হতে হবে। সেই শক্তি, সেই সমর্থ, সেই সংকল্প আসবে কোথা থেকে? বলা বাহুল্য এদেশের জনগণই হবে সেই শক্তির উৎস। এই জনগণই দেশের সকল সংগ্রামে, ত্যাগে, আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। দেশ গড়ার সংগ্রামে জনগণকেই সক্ষম করে তুলতে হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সকলের জন্য যথোপযুক্ত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বিশাল জনগোষ্ঠির পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য, তার অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপদানে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। একটি উন্নত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য, একটি সুষম পরিচ্ছন্ন মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য চাই সার্বজনীন শিক্ষা গভীর ও ব্যাপক আয়োজন। পৃথিবীর উন্নয়ন অগ্রগতি-প্রগতির ইতিহাস ব্যাপক গণমানুষকে নিরব রেখে অজ্ঞানতা-অশিক্ষা-কুশিক্ষার অন্ধকারে রেখে কোন জাতি, দেশ রাষ্ট্র সামনে এগোয়নি। এই ধ্রুবসত্যকে বিবেচনায় রেখে সর্বত্র প্রসারিত মানসম্মত সার্বজনীন শিক্ষার একটি সুপরিকল্পিত ও সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কোন কিছুই চিরকালীন, স্থির, অবিচল ব্যাপার নয়, হওয়া উচিত নয়, সময় ও অবস্থা বিবেচনায় শিক্ষাকে আধুনিক করতে হবে। সচল, নিয়ত প্রবাহমান দেশ ও জাতি তাতে আরো যুগোপযুগী হবে, আরো সমৃদ্ধ হবে, আরো উন্নত হবে।
শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
১. মূলত শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও কাঙ্খিত আচরণিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি দেশপ্রেমিক আত্মনির্ভরশীল নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, শ্রমনিষ্ঠ সুনাগরিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাই শিক্ষার লক্ষ্য।
২. যেহেতু একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের বিরাজমান আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, দীর্ঘদিনের লালিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিক ও মূল্যবোধের ওপর গড়ে ওঠা বাঞ্চনীয় তাই পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলোর প্রতিফলন সুনিশ্চিত করতে হবে।
৩. শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়নে ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা। পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমেই জাতিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
৪. ব্যক্তি ও জাতীয় নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে শিক্ষার্থীদের মননে, কর্মে ও ব্যবহারিক জীবনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা। শিক্ষার সর্বস্তরে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটানো এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের সচেতন করা।
৫. জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে আর্থসামাজিক শ্রেণি-বৈষম্য ও নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করা, বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব, অসাম্প্রদায়িকতা, সৌহার্দ্য ও মানুষে মানুষে সহমর্মিতাবোধ গড়ে তোলা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা।
৬. একটি সংস্কৃতিবান সুরুচিসম্পন্ন, ঐতিহ্য সচেতন সুশৃঙ্খল জাতি ও নাগরিকগোষ্ঠী সৃষ্টির জন্য পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সহশিক্ষা শিক্ষার্থীর মনের সুকুমার বৃত্তিকে জাগ্রত করে, মন ও কর্মে শৃঙ্খলা বোধ সৃষ্টি করা।
৭. মুখস্ত করা বিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং সুন্দর মননের অধিকারী হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি স্তরের প্রারম্ভিক যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করা। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, প্রকৃত শিক্ষা জীবন ঘনিষ্ঠ হবে এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি অনুসন্ধান ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে সহায়ক হবে।
৮. শিক্ষার প্রত্যেক স্তরে শিক্ষার যথাযথ মান নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী স্তরে অর্জিত শিক্ষার বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্ঞান ও দক্ষতা দৃঢ় করে পরবর্তী স্তরের সাথে সমন্বয় করা। এগুলো সম্প্রসারণে সহায়তা করা এবং নবতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সমর্থ করা।
৯. উচ্চ শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে শিক্ষার্থীর জ্ঞান যাতে সৃজনশীল ও মুক্ত চিন্তা উৎসাহিত করে এবং নতুন নতুন গবেষণা কাজে উদ্বুদ্ধ করে শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে সাবলীলভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
১০. সর্বক্ষেত্রে মানসম্পন্ন উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহীত করা এবং মৌলিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের গবেষণার সাথে সাথে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা।